অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন চান এরশাদ

0

আলোছায়া, ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, নির্বাচনের আগে সরকার ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদপরে ওই সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি

এছাড়া বিএনপি বর্তমান সংসদে না থাকায় তাদের এ সরকারে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলেও মত দেন জাপা চেয়ারম্যান।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এসব দাবি জানায় জাপা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপে অন্যান্য কমিশনারসহ ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এরশাদের নেতৃত্বে জাপার ২৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেন।

লিখিত বক্তব্যে এরশাদ দাবি করেন, প্রতিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জাতীয় পার্টির প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। ফলে দলটি মনে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
জাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনে স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়ন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করা, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তবর্তী সবকার গঠন করতে হবে।

জাপার অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল, দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তবর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ এবং নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব রাখা যাবে না।

নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এর মধ্যেই খরচ সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের দাবি জানায় জাপা।

দলটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রচারণায় গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান, বার বার সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচনকালীন প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-নির্বাচন কমিশনের অধীনে দিয়ে আসতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করতে হবে মত দিয়ে পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় পার্টির একটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বচনের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন। এ পদ্ধতিতে সন্ত্রাসী, মাস্তান, কালো টাকার মালিক, অর্থ ও বিত্তের জোরে রাজনীতিতে অনবিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন কিংবা নির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ রয়েছে। এতে সৎ-বিজ্ঞ, ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনসেবা ও দেশসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। এরই ধারবাহিকতায় এই সংলপা হয়। ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে মত বিনিময় করেছে ইসি। ২৪ আগস্ট থেকে দলগুলোর সঙ্গে মত বিনিময় শুরু হয়েছে।

print

Leave A Reply